নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | 10 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থানান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিচালনগত মাইলফলক অর্জন করেছে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটি সফলভাবে তাদের ৩০০তম শিপ-টু-শিপ (এসটিএস) কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। বিশ্বমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিচালনগত উৎকর্ষ বজায় রাখার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড (এসএলএনজি) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সামিট এলএনজি টার্মিনাল দেশের মোট গ্যাস চাহিদার প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করেছে। বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
২০১৯ সালের এপ্রিলে কার্যক্রম শুরু করার পর থেকে এসএলএনজি টার্মিনালটি মোট ৪ কোটি ১৮ লাখ ৫৩ হাজার ২৯৪ ঘনমিটার এলএনজি গ্রহণ করেছে। একই সময়ে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রায় ৯৪ কোটি ৫৩ লাখ ৩৭ হাজার ৩০৬ এমএমবিটিইউ রিগ্যাসিফাইড লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
দক্ষতা, নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্নতার সঙ্গে শিপ-টু-শিপ স্থানান্তর এবং টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার জন্য এক্সিলারেট এনার্জি এলপি ও পিএসএ মেরিন সিঙ্গাপুরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এসএলএনজি।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশের সরকার, পেট্রোবাংলা এবং রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) প্রতি তারা কৃতজ্ঞ। পাশাপাশি, এসএমবিসি, সিঙ্গাপুরসহ বিদেশি ঋণদাতাদের সহযোগিতার কথাও স্বীকার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব অংশীদারের সহযোগিতা সামিট এলএনজি টার্মিনালের কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
টার্মিনালের সাফল্যে অবদান রাখার জন্য প্রকৌশল ও শ্রেণিবিন্যাস-সংক্রান্ত অংশীদারদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এসএলএনজি। এ তালিকায় রয়েছে ম্যাকগ্রেগর, জি-ওশান, ডিএনভি (DNV), ব্যুরো ভেরিটাস (BV), শেলফ সাবসি এবং জিওসিন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কাতার গ্যাস, বিপি, শেল, টোটাল, শেভরন শিপিং, চেনিয়ের এনার্জি, পেট্রোনাস ও এনএলএনজি—বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলো টার্মিনালটিকে নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হিসেবে যাচাই করেছে।
এ ছাড়া, বিভিন্ন সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছে সামিট এলএনজি কর্তৃপক্ষ। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, পরিবেশ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, কাস্টমস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তর (আরজেএসসি), বিস্ফোরক পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ব্যাংক, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল), বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), মৎস্য অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, রিভার পুলিশ এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন সরকারি ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সমুদ্রে শিপ-টু-শিপ স্থানান্তর কার্যক্রমের ধারাবাহিক সাফল্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করায় এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে এসএলএনজি। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে কাতার এনার্জি, বিপি শিপিং, নকিলাত শিপিং, মারান গ্যাস মেরিটাইম, এমওএল এলএনজি শিপম্যানেজমেন্ট, এনওয়াইকে (NYK), কে-লাইন, হুঘ এলএনজি (Höegh LNG), টিকায় শিপিং, গোলার এলএনজি (Golar LNG), শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং অ্যান্ড শিপিং কোম্পানি লিমিটেড (STASCO), টোটাল এনার্জিজ, শেল, ভিটল, বিপি গ্যাস, অ্যাঙ্গোলা এলএনজি, ইএনএন এলএনজি (ENN LNG), টোটাল গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার, শেনিয়ার (Cheniere), পেট্রোচায়না, এক্সনমোবিল এলএনজি এবং এক্সিলারেট।
এসএলএনজি জানিয়েছে, টার্মিনালের এই সাফল্যের পেছনে কর্মীদের নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাদের ধারাবাহিক ও আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণেই প্রতিদিন টার্মিনালটি নিরাপদ ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে।
সামিট এলএনজি টার্মিনাল সম্পর্কে
সামিট এলএনজি টার্মিনাল কোম্পানি (প্রাইভেট) লিমিটেড বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জ্বালানি অবকাঠামোগুলোর একটি পরিচালনা করে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৯ সালের ৩০ এপ্রিল থেকে মহেশখালীতে অবস্থিত অফশোর এলএনজি গ্রহণকারী টার্মিনালটির নির্মাণ, মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।
জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে টার্মিনালটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বাংলাদেশ সরকার এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেড-১ (GA) ‘কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন’ (KPI) হিসেবে ঘোষণা করে।
সামিট করপোরেশনের ৭৫ শতাংশ এবং মিতসুবিশির ২৫ শতাংশ মালিকানায় যৌথ উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
টার্মিনালটির প্রধান সেবার মধ্যে রয়েছে এলএনজির শিপ-টু-শিপ স্থানান্তর ও সংরক্ষণ, রিগ্যাসিফিকেশন এবং ৫.৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রতলদেশের পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্যাস সঞ্চালন নেটওয়ার্কে নিরবচ্ছিন্নভাবে রিগ্যাসিফাইড লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ করা।
Posted ৫:৩০ পিএম | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.